সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তরে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। আর নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম। সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন মোট ১৩ জন। ঢাকা উত্তরে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ২৫১ জন আর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৭৭ জন।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৩২৬ জন এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৮২ জন। দুই সিটিতে মোট ভোটার ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার। সকাল ৮টা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে।

এবার নির্বাচনে শান্তিপূর্ন পরিবেশে প্রচারনা শেষ করেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় ২/১ টি ঘটনা ছাড়া তেমন কোন সহিংসতার ঘটনা শোনা যায়নি। রাজধানীর গোপীবাগে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে হামলা চালানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচন পরিচালনায় সকল দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিগন, একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় নিরলস ভাবে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এবাবের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত উত্তর ও দক্ষিনের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও মোঃ আতিকুল ইসলাম তাহারা দুজনেই ঢাকা বাসির কথা চিন্তা করে, ঢাকাকে কিভাবে একটি সুন্দর বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা যায়, সেই সব বিষয় গুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।এদিকে তাপস ও আতিকুল প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চান দোয়া চান। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন ভোটারদের কাছে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবার প্রথম ইভিএম এর মাধ্যমে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন পেশার সকল শ্রেনীর মানুষের সাথে তাহারা সৎ আর্দশবান মেধাবী ব্যাক্তিদের উন্নয়নের পক্ষের নৌকা মার্কার প্রার্থীদের ভোট দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

নতুন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি এই প্রথম ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট দিবেন এটা তাদের আনন্দের বিষয়। ইভিএমের মাধ্যমে কোন রকম জাল কিংবা ভূয়া ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এখানে ভোটারের ফিংগার প্রিন্ট এর মাধ্যমে ভোটার শনাক্ত করা হবে। অতীতে অনেক ভোট কেন্দ্র দখল করে নিত, ব্যালট পেপার চুরি হয়ে যেত, ইভিএমের মাধ্যমে সেই সুযোগ আর নেই । সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভোটের অধিকারের কথা চিন্তা করে, যার ভোট সেই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে। ভোট জনগনের অধিকার এই কথা চিন্তা করে নির্বাচন কমিশন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট ব্যাবস্থা করেন। নির্বাচনের সকল ধরনের প্রচারনা শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল ভোট কেন্দ্রগুলোর দ্বায়িত্ব সুষ্ট ভাবে নিয়েছেন নির্বাচন পরিচালনায় নিযুক্ত সকল সংস্থা। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে এবারে ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন প্রতিটি নারী পুরুষ ভোটার। তাই আমি আশাবাদী সকল ভোটার নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে ভোট দিতে।

মীর তোফাজ্জল হোসেন

লেখক,সাংবাদিক,রাজনীতিবিদ।