বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন অবশেষে অবৈধ বিবেচিত ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই ভবন ভাঙতে ৬ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

এই ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এক প্রধানমন্ত্রী, আর উদ্বোধন করেছিলেন আরেক প্রধানমন্ত্রী। দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক দ্বয়ের হাতে পত্তন হওয়া ভবন যে একটি অন্যায়ের উপর দাঁড়িয়েছে; তার প্রথম অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন নিউ এইজের তৎকালীন রিপোর্টার তাইয়িব আহমেদ। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ভবন নির্মাণে দুর্নীতির প্রমাণ পান তিনি।   নিউ এইজের সেই রিপোর্টের সূত্র ধরেই পরবর্তীকালে আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত। 

২০০৬ সালের দিকে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায়, জলাশয়ে ভবনটি নির্মাণ করায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন পরিবেশবাদীরা। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারওয়ান বাজারে দুই বিঘা জমির ওপর বিজিএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

১৬ তলা ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভবনটি উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই ১৬ তলা ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিজেদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠনটি। বাকি তলাগুলো একটি ব্যাংক ও বিভিন্ন পোশাক মালিকদের কাছে অফিস হিসেবে বিক্রি করা হয়।

এরপর থেকে ভবনটি বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন ছিল না।

২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজিএমইএ ভবন নিয়ে একটি প্রতিবেদনে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আসে। সামাজিক ইস্যুতে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা নিতে সক্ষম হলে আসলেই যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কার্যকর ভূমিকা সম্ভব সেটি হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে প্রমান হয়েছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

সামাজিক ইস্যুতে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা নিতে সক্ষম হলে আসলেই যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কার্যকর ভূমিকা সম্ভব সেটি হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার সাংবাদিক তাইয়িব আহমেদের “BGMEA Bhaban constructed illegally'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর ২০১০ সালের ২ অক্টোবর নিউ এজের সাংবাদিক এরশাদ কমলের বিজিএমইএ ভবনের বৈধতা নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেটি উচ্চ আদালনের নজরে আসলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল রাজি (রুল নম্বর ১৯)। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। একই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান সর্বোচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ভবনটির উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে গত সাড়ে ১২ বছর এটি বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।