তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, এম মোরশেদ খানের পর আরও নেতারা বিএনপি ছাড়তে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান দল ছাড়ার পর গয়েশ্বর বলেছিলেন, বিএনপি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, এতে কেউ গেলে-এলে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।

হাছান মাহমুদ বলেন, “গয়েশ্বর বাবু বলেছেন, বিএনপি একটি বটগাছ। এই বটগাছে নিচে মানুষ আসবে, বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবে।

তাদের দল (বিএনপি) থেকে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নেতা যে চলে গেছে, সেই প্রসঙ্গেই তিনি এ কথা বলেছেন।

“এখন আমার আবার প্রশ্ন হচ্ছে গয়েশ্বর বাবু আবার বিএনপির বটগাছ থেকে চলে যায় কি না? সেই প্রশ্ন অনেকে করছে।”

“আসলে বিএনপি থেকে যেভাবে তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে, এই ছেড়ে যাওয়ার লিস্টে আরও আছে। সেগুলো ভবিষ্যতে বিএনপি দেখতে পাবে,” বলেন তিনি।

বিএনপি জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে পারেনি বলে তাদের এই হাল বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “তারা জঘন্য পথ অবলম্বন করেছে, জনগণের উপর আক্রমণ করা, পেট্রোল বোমা হামলা করা। সেইজন্য তারা (বিএনপি) জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই কারণে তাদের তাদের দলের নেতারা চলে যাচ্ছে।”

এছাড়া বিদেশ থেকে তারেক রহমানের দল পরিচালনার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “গণতন্ত্র বলে কিছু নাই। এখানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। সিদ্ধান্ত আসে বিদেশ থেকে, তাদের ভারপ্রান্ত দণ্ডপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে এবং সমস্ত অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত এবং সে কারণে আজকে দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।”

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ বলেন, “নূর হোসেন গণতন্ত্রের প্রতীক। সে যুবলীগের কর্মী ছিল। তার সম্পর্কে জাতীয় পার্টির নেতার বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য।

“রাঙ্গাঁ যে ভুল বুঝতে পেরেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি তার এই বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, তার এই বক্তব্য রাখা সঠিক হয়নি।”

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়া যে মামলা করেছে, তা ওআইসির সিদ্ধান্তে করা হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “কিছু দিন আগে ওআইসির সভা হয়েছিল। সেই সভায় সিদ্ধান্ত ছিল। সেই সিদ্ধান্তক্রমে ওআইসির পক্ষ থেকে গাম্বিয়া ইন্টান্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মামলা করেছে। এই মামলার সঙ্গে ওআইসির ৫৬ দেশের রেজুলেশনও সংযুক্ত আছে।”

এটা মিয়ানমারের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন হাছান মাহমুদ।

“এই মামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপ মিয়ানমারের উপর আরও বাড়বে এবং আশা করব তারা দ্রুত তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।”