ইউসুফ দিপু: সম্রাট থেকে পাপিয়া দেশের আলোচনায় বিষয় বস্তু। এরই মধ্যে কাসিনো কাণ্ডে ধরা পড়েছে যুবলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও অনেক অভিযুক্তরা। শুদ্ধি অভিযানকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে সম্রাটসহ প্রায় ২০ জন। তবে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ ও তার অসৎ কাজের সহযোগী স্বামী সহ মোট ৪ জন। এই রকমের আরও পাপিয়ার খোঁজে নেমেছে আওয়ামী লীগ

যুব মহিলা লীগের এই নেত্রী পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর উঠে আসছে তার অবৈধ পথে আয়েশি জীবনযাপনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অবৈধ অর্থ পাচার, জাল টাকা সরবরাহ, মাদক কারবার ও অনৈতিক কাজে জড়িত পাপিয়া। সুন্দরী নারীদের দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। শুধু পাপিয়া নয়।তাকে গ্রেফতারের পর তার পিছনে কারা পৃষ্ঠপোষকতা করতো তারাও অনেক বেশি আলোচনায়। বিশেষ করে ২ সিনিয়র নারী নেত্রী ও এক সংরক্ষিত এমপি এবার অভিযুক্ত হয়েছেন। তারা পাপিয়াকে এমন সুযোগ কেন দিতেন,তাদের কি স্বার্থ রয়েছে,এমন বিষয় গুলো উঠে আসছে আলোচনায়।

তবে সব কিছুর আলোচনায় চূড়ায় রয়েছে সরকারি দল ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কে অপব্যবহার। এ ধরনের নিজ দল ও সহযোগী সংগঠনের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অপব্যবহার মেনে নিতে পারছে না কেউ। তাদের দলের সহযোগী সংগঠন গুলো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দলকে ব্যবহার করে। তাদের নিজেদের দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চলছে দলের সভানেত্রীর সিদ্ধান্তে। দলের মধ্যে কে কে ক্ষমতা অপব্যবহার করে দলের সুনাম নষ্ট করে। তাদের সকলকে খুজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে।এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার কথা জানিয়ে যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হযেছে, তিনি আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সারা দেশে যুবমহিলা লীগের নেতা কর্মীদের খোঁজ নিতে। কারা কারা অপকর্মে সঙ্গে জড়িত তা খুজে বের করতে।

এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,পাপিয়া ও সম্রাটদের মত আরও যারা আছে তাদের খুজে বের করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী নরসিংদী যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও এমন পাপিয়াদের পিছনে যারা আছেন তারাও নজরদারির বাইরে নয়।তাদের তালিকা আওয়ামী লীগ তৈরি করছে। টার্গেট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেছিলেন, দেশের যে কোনো প্রান্তে হোক অপকর্ম, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকের সঙ্গে দলের লোকজন যদি জড়িত থাকে সেও রেহাই পাবেন না। তারা ইতোমধ্যে নজরদারিতে চলে এসেছেন। থেমে থেমে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া এই অপকর্মের পিছনে যারা কলকাঠি নাড়ছেন তারাও রেহাই পাবেন না।

আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেছেন, শেখ হাসিনা তাদের দলের নেতাকর্মীদের আগেই সতর্ক করে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যাতে তারা অপরাধে জড়িত না হন।

তিনি বলেন, “আমরা সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় আমাদের তদারক পর্যায়ের নেতাদের কাছে দলীয় প্রধানের নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছি যাতে কেউ অপরাধী ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত না করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলাপকালে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন ক্যাসিনো ব্যবসায় এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত লোকদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কারণে কাউকে রেহাই পাবে না।

এর আগে, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শেখ হাসিনা দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (ছাত্রলীগ) সাংগঠনিক প্রধান হাসিনা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে স্বস্ব পদ থেকে সরিয়ে দেন।

এই সিদ্ধান্তের পরে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীতে “ক্যাসিনো ব্যবসা” চালানোর জন্য যুবলীগের বেশ কয়েকটি যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন—ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা ঠিকাদার জি কে শামীম, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি ও কৃষকলীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ‘অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা’ সেলিম প্রধান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমান, জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী-দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম, সেলিম প্রধানের দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রহমান সহ প্রায় ২০জন।