চীনে উইঘুর মুসলমানদের নির্যাতনে দায়ী চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অভূতপূর্বভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসে যাবে। তিনি এতে স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হয়ে যাবে।

প্রশাসন চীন থেকে হংকংকে আর স্বায়ত্তশাসিত হিসেবে মনে করে না, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও কংগ্রেসকে এ কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বুধবার ‘দি উইঘুর হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট’টি ৪১৩-১ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়ে যায়।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলমান গোষ্ঠীকে নির্যাতনে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে বিলটিতে। জাতিসঙ্ঘ অনুমান করছে সেখানে ১০ লাখেরও বেশি মুসলমানকে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।

এটা এ ইঙ্গিতই দেয় যে, চীনের শক্তিশালী পলিটব্যুরোর সদস্য ও ওই অঞ্চলটির কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি চেন কুয়াংগু মুসলমানদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য প্রধানত দায়ী।

বিলটির সমর্থনে ডেমোক্রেট সদস্য ও হাউসের স্পিকার ন্যানসি পেলোসি বলেন, উইঘুর জনগণকে লক্ষ্য করে বেইজিংয়ের বর্বর আচরণ বিশ্ববাসীর সম্মিলিত বিবেককে বিক্ষুব্ধ করেছে।

দ্বিপক্ষীয় বার্তায় হাউসের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান মাইকেল ম্যাককোল এটাকে ‘রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের সমর্থক রিপাবলিকানরা বলছেন, তারা আশা করছেন ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন। তবে হোয়াউট হাউস থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনোকিছু জানানো হয়নি। কেউ কিছু মন্তব্যও করতে চাননি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ট্রাম্প করোনাভাইরাস মহামারি খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চীনকে অভিযুক্ত করে আসছেন।

উইঘুর মুসলমানরা বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।