মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে হত্যাকারী এজিদের উত্তসূরিরা বাংলাদেশে  জামায়াত-শিবির নামে কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

মঙ্গলবার ধানমন্ডীর তরিকত ফেডারেশনের দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র আশুরার দিনে মহান শাহাদাৎ-এ কারবালা র তাৎপর্যদ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মাইজবান্ডারী বলেন, “পাপিষ্ট জালিম এজিদ আজ নেই কিন্তু তাদের উত্তসূরী ওহাবী, জামায়েতসহ বিভিন্ন নামে বেনামে তারা তাদের কার্যাক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে শান্তি ও মানবতার ধর্ম পবিত্র ইসলাম আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তাই হোসাইন (রা.) এর আত্মাকে ধারণ করে এদেরকে চিন্হিত করে তাদের সাথে যারা জোট করে এবং মদদ দেয় তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং নতুন করে শপথ নিতে হবে।”

“এই জামাত-শিবির এরা কারা? এরা এজিদের বংশধর। এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরাই এজিদের বংশধর।”

সরকারের আশ্রয়ে ইসলামের নামে নানা সংগঠন কর্মকান্ড চালিয়েযাচ্ছে দাবি করে নজিবুল বশর মাইজবান্ডারী বলেন, “সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটা চক্র উঠেপড়ে লেগেছে।যার পরিণতি ভয়াবহ হবে।

 “সরকারের কিছু লোকের কারণে অজকে এই দেশে রাজনীতি করছে, এই দেশে আহলে হাদিসের নামে কোন সম্মেলন হয় নি। সরকার প্রধানের একজন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে প্রধান অধিতি করে আহলে হাদিস সম্মেলন করেছে।সালাফিরাও প্রস্ততি নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।”

“এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী জামায়াত-শিবির সরকারের সঙ্গে নিরবে মিশে গিয়ে তাদের কাজ চালাচ্ছে। আমাদের বিচ্ছিন্ন করে এজিদ বাহীনিকে শক্তিশঅলী করা হচ্ছে। এর পরিনতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”

সরকারের সঙ্গে মিশে গিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী এজিদ বংশধরেরা তরিকত পন্থি আলেমদের উপর নানা ভাবে আক্রমন চালানোর পায়তারা করছে বলেও দাবি করেন তরিকত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “আমাদের অনেক আলেমদের উপর আক্রমনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে, আমি বলতে চাই একজন তরিকত ফেডারেশনের সুন্নি আলেমদের উপর আক্রমন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে দাঙ্গা হবে। আমাদের অচল মনে করলে ভুল করবেন।স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তরিকত ফেডারেশন, তরিকতের উপর আঘাত আসলে প্রয়োজনে জিবন দিয়ে দেব।”

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে তরিকত ফেডারেশনকে শক্তিশালী করতে সরকারকে সহযোগীতা বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নজিবুল বশর মাইজবান্ডারী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সরকার এবং বিরোধী দলে যারা থাকবে উভয়েই  স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে হবে। তাহলে ওহাবী, আহলে হাদিস, কওমিদের কেন এত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসুন।  সারা বাংলাদেশে লাখ লাখ  সুন্নি আলেম স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে তরিকত ফেডারেশন করছে।”

তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীরর সভাপতিত্বে মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।