গত ৩১ আগস্ট জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে আসাম কর্তৃপক্ষ। এতে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ।

যারা এই চূড়ান্ত জায়গা পায়নি তাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে বৃহত্তম বন্দিশালা, যা সরকারি পরিভাষায় ডিটেনশন সেন্টার।

আসামের গোয়ালপাড়া জেলার মাটিয়ায় ৪৫ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে আচমকা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারিয়ে বিদেশি বলে গণ্য মানুষদের জন্য বিশেষ ওই বন্দিশালা। গুয়াহাটি থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৩০০০ বন্দি থাকতে পারবেন, এমন ভাবেই তৈরি হচ্ছে ওই সেন্টার।

বর্তমানে আসামে ডিটেনশন সেন্টার আছে ৬টি, যেগুলো জেলা সংশোধনাগারের মধ্যে চলে। তাতে বিদেশি বলে গণ্য মানুষদের থাকতে হয় বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্তদের সঙ্গে। যেমন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মামলা হারার পর ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই হয়েছিল ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহম্মদ সানাউল্লাহর। সেখানে আর পাঁচজন অপরাধীর সঙ্গে একমাস কাটাতে হয় তাকে। মাটিয়ার বন্দিশালাই প্রথম, যেখানে শুধু বিদেশি বলে গণ্যরা থাকবেন। এমন আরও ১০টি সেন্টার তৈরি করতে চায় বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার। বরপেটা, ডিমা, হাসাও, কামরূপ, করিমগঞ্জ, লখিমপুর, নগাঁও, নলবাড়ি, শিবসাগর ও শোনিতপুরে হবে সেই বন্দিশালা। প্রতি বন্দিশালায় প্রায় ১০০০ জনের থাকার ব্যবস্থা হবে। এসব বন্দিশালা তৈরিতে মোট খরচ হাজার কোটি টাকা!

ক’দিন আগে প্রকাশিত অসমের এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় রাজ্যের প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম ওঠেনি। তাদের হাতে এখনও ১২০ দিন সময় আছে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আরও কাগজপত্র জমা করে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার। ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে বন্দি করা হবে না বলে আশ্বাসও এসেছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। তথ্য যাচাইয়ের জন্য আগামী ৩ মাসে তৈরি হচ্ছে আরও ২০০ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। তবু দুশ্চিন্তা যায় কি? ঘটনাচক্রে, সেই সময়সীমা যখন শেষ হবে, তার ক’দিনের মধ্যে মাটিয়ার বন্দিশালার কাজও শেষ হওয়ার কথা। চার তলার ১৫টি টাওয়ার, প্রতিটি টাওয়ারে ২০০ জনের থাকার ব্যবস্থা। তবে এক পরিবারের হলেও নারী-পুরুষকে আলাদা থাকতে হবে। যদিও স্কুল, হাসপাতালের মতো সেবা থাকবে এখানে।

সূত্র: এই সময়