করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐক্যের কোন প্রয়োজন দেখছেন না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারী বাসভবনে থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করছেন? কিন্তু আজকে আন্তর্জাতিক ভাবে ফোর্বস ইকোনোমিষ্টের মত প্রেস্টিজিয়াস সাময়িকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বের প্রসংশা করেছেন এবং সাফল্যের বিষয়টি দেশে বিদেশে সমাদ্রিত হয়েছে। করোনা সংকট মোকাবিলায় তার নেতৃত্ব এবং গৃহীত ব্যবস্থার প্রশংসা সর্বত্রই রয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিবের রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলার আহ্বানের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিশ্বের ২১০টি দেশে করোনার বিস্তার ঘটেছে। আমাদের প্রতিবেশি দেশসহ পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐকের প্রয়োজন দেখা দেয় নি। এ সংকটে প্রয়োজন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে সমন্বয় তৈরি করা। 

“চিকিৎসা বিষয়ক দক্ষ অভিজ্ঞদের নিয়ে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী স্বেচ্ছাসেবী , সামাজিক সংগঠন নিয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরোদ্ধে লড়াই করা। কারণ আমরা সকলেই করোনার অভিন্ন টার্গেট। রাজনৈতিক দলগুলোর এখন প্রয়োজন জনগণের পাশে দাঁড়ানো; নিজেরা সচেতন হওয়া , অন্যদের সচেতন করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা “ 

“বিভিন্ন দেশে টাস্কফোর্স হয়েছে হচ্ছে, তবে সেটা ভ্যাকসিন রিলেটেড কিংবা চিকিৎসা বিষয়ক। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য তথা জাতীয় ঐকের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে করোনা বিষয়ে অহেতুক ঐক্য গঠনের প্রয়োজনিয়তা কি? 

করোনাভাইরাস সংকটে বিএনপি কথামালার চাতুরি নিয়েই ব্যস্ত বলেও দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই করোনাভাইরাস সংকট কালেও কথায় কথায় সরকারের ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে বিশোধগার করছেন। অথচ তারা কখনওই জনগনের রাজনীতি করেন নি। দে র‌্যোগের সময়ও তারা সত্তিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেন নি। বরং সরকারের সাফল্যকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। 

“আমি মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন রাখতে চাই, এই দুর্যোগের সময় তারা কথামালার চাতুরি ছাড়া জনগণকে করোনা মোকাবিলায় কিছুই কি দিতে পেরেছেন? পার্শ্ববর্তী দেশে দেখুন, কংগ্রেস তহবিল গঠন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।” 

“রাজনৈতিক বিরোধীতার নামে সরকারের সমালোচনা করার চিরায়ত ভাইরাসে আক্রান্ত আজ বিএনপির রাজনীতি।সরকারকে আজ জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে। মানুষকে বাঁচানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাকাকেও সচল করে রাখতে হবে। তাই, সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”