ইউসুফ দিপু: বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা মহামারির থমথমে মুহূর্ত। এই সময়ে বাংলাদেশ যখন প্রায় লক ডাউন হয়ে আছে এমন পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে দেশের খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষ গুলোর দিন চলবে কি ভাবে? এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা গুলোতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। লক ডাউনের এই মুহূর্তে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। দেশের এমন ভয়াল পরিস্থিতিতে দেশের অসংখ্য রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকলেও মাঠে ত্রাণ নিয়ে দেখা যাচ্ছে শুধু মাত্র ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকেই। তবে এমন সময় আওয়ামী লীগের দলীয় ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে আবার ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসছে প্রতিদিন। 

দেখা গেছে, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন যে দলের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী করোনা ভাইরাসের কারণে দুর্ভোগে পড়া গরীব খেটে-খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। এমনকি বিনামূল্যে শাক-সবজি বিতরণ করছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী যারা নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত। 

এক্ষেত্রে অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে মাঠে দেখা যায়নি প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতাদের। বিভিন্ন কনফারেন্সে আশাবাদি কথা বললেও বিএনপি নেতারা কোন মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত দাঁড়াননি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যা একেবারেই কাম্য নয়।  

এর আগে , ত্রাণ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বিভাগের জেলাগুলোর প্রশাসনের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেন। এ সময় ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম বা লুটপাটকারীদের প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ত্রাণ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা যেই হোক তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, করোনাভাইরাসের চলমান এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করে তাদের মানুষ বলা যায় না; এরা মানুষরূপী জানোয়ার। তিনি এদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে ত্রাণ আত্মসাৎকারী জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে সব জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো অনিয়ম সহ্য করবে না দল। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে হাইকমান্ড। ত্রাণ বিতরণে যেন কোনো ধরনের দলবাজিও না হয় সে ব্যাপারে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত করোনা দুর্যোগে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাড়ি বাড়ি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প-আয়ের মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

দিনমজুর, রিক্সা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্র্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্র্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যাঁরা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লক-ডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য  ৭৬০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। গার্মেন্স শ্রমিকদের এবং গ্রার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘বয়স্ক ভাতা’ ও ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা হবে। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা।কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে।