কোনো উৎসব আসলেই সমাজের নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সকল শেনীর মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে। মুখরোচক খাবার এবং রঙ্গীন বাহারি রঙ-বেরঙের পোশাক থাকে উৎসবের অন্যতম আকর্ষন।

কিন্তু সমাজের একশ্রেনীর মানুষ যারা সবসময় অবহেলিত, এমনকি নীজ পরিবারেও তারা প্রায় সময় অবহেলার শিকার হন, যাদের কোন উৎসব ছুঁতে পারে না, অনাহার ও অবহেলায় দিন পার করেবলছিলাম আমাদের সমাজের এতিম প্রতিবন্ধীদের কথা, যাদের চলারফেরার জন্যেও অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়।   

সমাজের আর সকলে যখন মজাদার এবং নতুন কাপড় পরিধান করে আনন্দ ভাগাভাগি করে, সেখানে এই এতিম প্রতিবন্ধী মানুষগুলো তাদের আনন্দ খুঁজে নেয় ডাল ভাত আর পুরাতন কাপড়েই

এই সব বঞ্চিত ও অবেহেলিত মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটাতে গত কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি করে আসছে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ‘ফুলের হাসি’ নামের একটি সংগঠন।

সংঘটনটি বিভিন্ন উৎসবে গরীব এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাবার এবং নতুন পোশাক দিয়ে থাকেন। এমনকি তারা প্রতি বছর অন্তত একজন গরীব পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য আর্থিক ভাবে সহায়তা অথবা কাজ করে উপার্জন করতে পারবে এমন সামগ্রী কিনে দিয়ে থাকেন। যাতে পরবর্তীতে সেই পরিবারের কাউকে মানুষের কাছে হাত পাততে না হয়।

মিঠামইন উপজেলা একই স্কুলের নয়জন শিক্ষার্থী মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। তাদের এই মহৎ কাজ দেখে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

২০১৮ সালে সংঘটনটি ১৪ জন প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ঈদ উপলক্ষে নতুন জামাকাপড় দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এরপরে ২০১৯ সালে ঈদুল-ফিতরে ৩৯ জন এতিম প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধ মানুষের মাঝে নতুন কাপড় বিতরনসহ বছরে একজন গরীবকে স্বাবলম্বী করার লক্ষে এক মহিলাকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেন।

এ বিষয়ে ‘ফুলের হাসি’ এর সমন্বয়ক শারমিন সুলতানা বলেন, ২০১৮ সালের প্রথম দিক মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে আমরা ‘ফুলের হাসি’ নামের একটি সংঘটন গঠনের উদ্যোগ নেই।

আমাদের উদ্দেশ্য হলো এতিম প্রতিবন্ধী এবং যাদের সন্তান নেই তাদের সাথে বিভিন্ন উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া এবং প্রতি বছর একজনকে সাবলম্বি করে তোলা, কারন আমরা বিশ্বাস করি যে একটি নতুন কাপড় তাদের আনন্দ বাড়ালেও তাদের কষ্ট গুলো একবারে মুছে দেওয়াটা জরুরি

তিনি বলেন, আমরা যাদের জন্য কাজ করি তারা কোন অভিশাপ না, তারা আল্লাহর বিশেষ উপহার। আমদের কাজটা আপাতত মিঠামইন উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভবিষতে আমরা এটির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিআর এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে মাসিক চাদা নিয়ে থাকি। বছর শেষে এই টাকা দিয়ে এই এতিম প্রতিবন্ধীদের কল্যানে ব্যয় করি। যেহেতু আমরা সবাই শিক্ষার্থী, আমাদের নিজেদের অর্থ উপার্জনের কোনো উৎস নেই। আমরা আমাদের এলাকার বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং যারা নিজ থেকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চায় তাদের থেকে টাকা সংগ্রহ করে থাকি। 

শারমিন বলেন, আমরা চাই আমাদের কাজটা আরো বড় করতে,সমাজের বিশিষ্ট দাতা শ্রেনী যদি আমাদের এই ছোট উদ্যোগ কে একটু সহযোগিতা করে আমরা আমাদের কাজটা আরো বড় করতে পারবোএটা আমার বা আমাদের একার দায়িত্ব না, আমাদের সকলেই দায়িত্ব সমাজের এই বঞ্চিত শ্রেনীকে আলোকিত করা

“সবাই যদি তাদের ভালোবাসা আর সহযোগিতা দিয়ে আমাদের পাশে দাড়ায় তাহলে আমাদের কাজটি করতে আরো সহজ হবে”।