গতকাল রাজকোটে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি। আজ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়ানো নিয়ে সংশয় হয়েছিল আরও ঘনীভূত। কিন্তু রাত পেরিয়ে সকাল হতেই পাল্টেছে আকাশের রং। রোদ্দুর ঝলমলে। এই রোদ খেলা মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ মজা করে বলতে পারেন, ঝড়ের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটা পণ্ড হলেই তো ভালো। ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করা নিশ্চিত হয়!

কিন্তু জাত খেলোয়াড় কিংবা সমর্থকেরা এভাবে ভেবে থাকেন না। খেলে হার-জিতের মধ্যে যে স্বাদ তা না খেলে ড্রয়ের মধ্যে নেই। আজকের ম্যাচটা এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ। জিতলে ভারতের মতো প্রতিপক্ষের মাটিতে সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ। এমন ম্যাচের একাদশ কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা ডালপালা মেলাই কিন্তু স্বাভাবিক।

ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে চিন্তাটুকু বাদ দিলে আজ রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের অপেক্ষায় সবাই। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ভারত উন্মুখ হয়ে আছে সিরিজে ফিরতে। আর বাংলাদেশ? তারা যে চায় আজই সিরিজ জিতে নিতে! দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলছেন, ম্যাচটা জিততে তাঁরাও মরিয়া, ‘ওরা (ভারত) হয়তো মরিয়া হয়ে আছে। আমরাও মরিয়া হয়ে আছি। এটা অনেক বড় একটি সুযোগ আমাদের জন্য। যেহেতু আমরা প্রথমবার ভারতে পূর্ণাঙ্গ সফরে এসেছি। সিরিজ জিততে পারলে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন হয়ে থাকবে।’

দুই দলই যখন জয়ের লক্ষ্যে অটুট, সে ম্যাচের আলাদা উত্তাপ-উত্তেজনা তো থাকেই। ভারতীয় দল কী কৌশলে নামছে এই ম্যাচে, সেটি রোহিত শর্মা বললেন না। ভারতীয় অধিনায়ক জানালেন তাঁদের ভাবনার কথা, ‘আমাদের কৌশল নিয়ে বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি, আমাদের অ্যাপ্রোচটা এবার ভিন্ন হবে। দিল্লিতে খেলেছিলাম পিচের চরিত্র বুঝে। পিচ যেমন আচরণ করছিল, সে অনুযায়ী খেলেছিলাম। এখানকার (রাজকোট) পিচ অনেক ভালো। এ কারণে ব্যাটিং-বোলিংয়ে আমাদের ভাবনা হবে ভিন্ন।’

ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শট খেলে অভ্যস্ত। দিল্লির মন্থর, নরম উইকেটে যেটি তাঁরা ইচ্ছেমতো খেলতে পারেননি। রাজকোটের ন্যাড়া উইকেটে সে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মাহমুদউল্লাহর মতে, এটা ১৭০-১৮০ রানের উইকেট। এই উইকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে, বাংলাদেশ অধিনায়কের সেটিও অজানা নয়, ‘আঁচ করতে পারছি, হয়তো তারা অনেক শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে। আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে আপনি যদি উইকেট থেকে সহায়তা নিতে পারেন এবং সে অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজাতে পারেন তাহলে সুযোগ থাকবে ভালো করার। টি-টোয়েন্টিতে সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’

ভারত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে, বাংলাদেশও নিশ্চয়ই বসে থাকবে না। পাল্টা হুংকার ছেড়ে রেখেছে তারাও। উইকেট যেহেতু ন্যাড়া আর ব্যাটিং-বান্ধব—টস জিতলে নিশ্চয়ই ব্যাটিং! তবে দলীয় সূত্র জানাল, টস জিতলে বাংলাদেশ নাকি সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতো ফিল্ডিংই নেবে। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের যুক্তি, ‘শিশিরে সন্ধ্যায় মাঠ আর্দ্র হয়ে ওঠে। আর যদি বৃষ্টির কারণে কন্ডিশন ভেজা থাকে! সেটিও ভাবনায় কাজ করছে।’

বাংলাদেশ দল সাধারণত উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চায় না। রাজকোটে আজকের ম্যাচেও অপরিবর্তিত একাদশ নামার সম্ভাবনাই বেশি। কাল মিনহাজুল অকপটেই সাংবাদিকদের সেটি জানিয়েছেন, ‘আশা করি দল ওটাই থাকবে। এখন পর্যন্ত সবাই চোটমুক্ত আছে। একাদশে পরিবর্তন আসার কোনো সম্ভাবনা দেখি না।’

তবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, উইকেট শুকনো হলে একাদশে পরিবর্তন থাকলেও থাকতে পারে, ‘আশা করি উইকেট ভালো হবে। সেটি হলে আমাদের গেম প্ল্যানে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।’ তখন একজন পেসার কমিয়ে হয়তো ব্যাটসম্যান বাড়াবে বাংলাদেশ দল। তবে অধিনায়ক নিজেও উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার পক্ষে নন।

একাদশে অদলবদল নিয়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের তেমন ভাবনা না থাকলেও ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রীকে বেশ চিন্তিতই দেখাল কাল। বিকেলে মাঠেই নাকি যোগাসনে বসেছেন ভারতীয় কোচ! শাস্ত্রীর যোগাসন কতটা কাজে দিল, আজ ম্যাচ শেষেই বোঝা যাবে।