ঈদের আনন্দ নিজ পরিবার ও জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চান রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দও। তবে নানা কারণে দল দুটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ঈদের পরপরই ফিরতে হবে রাজধানী ঢাকায়। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই এবার ঈদ করবেন নিজ এলাকায়। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস থাকায় ঢাকায় ফিরে আসবেন অনেক নেতা।

ঈদের দিন গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হবে। এরপর ১১টায় বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, সিনিয়র সচিব, সচিব ও সমমর্যাদার বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঈদের দিন বঙ্গভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

গত ঈদে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকায় ঈদ উদযাপন করে নোয়াখালীতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যান। আসন্ন ঈদে তিনি ঈদ করবেন নিজ এলাকায়।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠিতে ঈদ করবেন। এ জন্য তিনি শনিবার (১০ আগস্ট) ঢাকা ছেড়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদও নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় ঈদ করবেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী শারীরিক সমস্যাজনিত কারণে ঢাকায় ঈদ করবেন।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিমও ঈদ করবেন ঢাকায়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জে নিজ নির্বাচনী এলাকার কাজিরপুরে, কাজী জাফরউল্লাহ ঢাকায়, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইলে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী নিজ এলাকা শেরপুরে ঈদ করবেন। বাকিদের মধ্যে সাহারা খাতুন ঢাকা, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য যশোরে, লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান ঢাকা, আবদুল মতিন খসরু কুমিল্লা, রমেশ চন্দ্র সেন ঠাঁকুরগাও ঈদ করবেন। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও ঢাকায় ঈদ করবেন।

আওয়ামী লীগের চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়া ও আব্দুর রহমান ফরিদপুরে নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। তবে অপর দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরে ঈদ করবেন। তিনি ১১ আগস্ট এলাকার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। তবে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের ১৪ তারিখ ঢাকায় ফিরে আসবেন তিনি।

বাকিদের মধ্যে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকায়, আহমদ হোসেন নেত্রকোনা, বিএম মোজাম্মেল হক ঢাকা, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাট, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর, শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ঢাকায় থাকবেন। আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনার কেন্দুয়া আটপাড়ায় থাকবেন।

এ ছাড়া বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঢাকায় থাকবেন। কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নার লাইলী ঢাকায় ঈদ করবেন। তিনি ঈদের দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ঢাকায় থাকবেন। উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রামে থাকবেন। প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম হজ্ব পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিজ নির্বাচনী এলাকায় রংপুরে ঈদ করবেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন পটুয়াখালী, ডা. রোকেয়া সুলতানা ঢাকায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ঢাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর কুমিল্লায় উদযাপন করবেন। এর বাইরে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ঢাকায় ঈদ করবেন। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ ঢাকায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস ঢাকায় অবস্থান করবেন।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বরিশালে, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলাম ঢাকায় ঈদ করবেন। অন্যদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন নিজ এলাকায় নরসিংদী, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী, সিমিন হোসেন রিমি গাজীপুর, এস এম কামাল হোসেন ঢাকায়, মির্জা আজম জামালপুর, আমিরুল আলম মিলন ঢাকায় ঈদ পালন করবেন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার ঢাকায়, ইকবাল হোসেন অপু নিজ নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুর, আনোয়ার হোসেন ঢাকা, মারুফা আক্তার পপি জামালপুরে ঈদ করবেন।

অন্যদিকে, গতবারের মতো এবারও কারা হেফাজতে ঈদ করতে হচ্ছে  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। সেখানেই কাটবে বিএনপিপ্রধানের ঈদ। ফলে ঈদুল আজহা অনেকটা নিরানন্দেই কাটবে দেশের অন্যতম বৃহৎ দলটির নেতাকর্মীদের। তবু এলাকার মানুষের সঙ্গে আনন্দ-নিরানন্দ ভাগাভাগি করতে অনেক নেতাই ঈদ করবেন ঢাকার বাইরে নিজ এলাকায়। কেউবা ঈদ করবেন ঢাকায়।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঈদ করবেন লন্ডনে। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ঈদ করবেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করবেন ঠাকুরগাঁও। গতকাল শনিবার (১০ আগস্ট) নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও  পৌঁছেছেন তিনি। সেখানে পরিবার পরিজন এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করবেন। দেবেন পশু কোরবানি। ঈদের কয়েকদিন পর তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের নামাজ শেষে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যাবেন তিনি। এর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বিএসএমএমইউ-এ যাওয়ার কথা রয়েছে তার। স্থায়ী কমিটির আরেক প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঈদ করবেন নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ঈদ করবেন ঢাকায়, ড. মঈন খান ঈদ করবেন নিজ এলাকা নরসিংদীর পলাশে, মির্জা আব্বাস ঈদ করবেন ঢাকায়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঈদ করবেন চট্টগ্রামে। বরাবরই তিনি চট্টগ্রামে ঈদ করে থাকেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ যথারীতি ঈদ করবেন ভারতে। অনুপ্রবেশের দায়ে ২০১৫ সাল থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে আছেন তিনি। গত তিন  বছরে ছয়টি ঈদ সেখানেই করতে হয়েছে তাঁকে। এবারও সেখানেই ঈদ করতে হবে তাঁকে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। গুলশান জামে মসজিদের ঈদের নামাজ শেষে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বাসায় নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, মো. আব্দুল কাইয়ুম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঈদ করবেন ঢাকায়।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান (চট্টগ্রাম) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী), বরকত উল্লাহ বুলু (নোয়াখালী), মো. শাজাহান (নোয়াখালী), চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ (ফরিদপুর), মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ( ভোলা), অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল), ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (ময়মনসিংহ), শামসুজ্জামান দুদু ( চুয়াডাঙ্গা), উপদেষ্টা পরিষদের আবুল খায়ের ভূইয়া লক্ষ্মীপুর, হেলালুজ্জামান তালকুদার লালু (বগুড়া), গোলাম আকবর খন্দকার (চট্টগ্রাম) যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার (বরিশাল), ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ( নোয়াখালী), খায়রুল কবীর খোকন (নরসিংদী), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী) ঈদ করবেন নিজ নিজ এলাকায়।