বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্রলীগের খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে জিম্মি। অতীত ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়ে ছাত্রলীগের ডাকনাম এখন হয়েছে চাপাতিলীগ। এই চাপাতিলীগকে নিষিদ্ধ না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরবে না।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদের মতো একজন নিরীহ, নিরপরাধ ও দেশপ্রেমিক মেধাবী ছাত্রকে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নেই। আবরার ফাহাদ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধে, দেশের মাটি-পানি রক্ষার যুদ্ধে প্রথম শহীদ। তাই আমরা ফেনী নদীর নাম ‘আবরার নদ’ করার দাবি জানাই। পাশাপাশি নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কোমলমতি স্কুলশিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। আজ সারাদেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠেছে। আবরারের খুনিদের বিচারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন এখন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান- এই মৃত্যু উপত্যাকাকে শান্তিময় করতে রাজপথে এখনই নেমে আসতে হবে।

বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন- আবরার হত্যার দায় ছাত্রলীগের নয়। সেটা আমরাও বলি। প্রকৃত অর্থে এটার দায় তাদের, যারা তাদেরকে দানব বানিয়েছে এবং ব্যবহার করেছে বিরোধী শক্তিকে রক্তাক্ত করার জন্য। বাস পোড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে যদি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা হয় তবে আবরার হত্যার জন্য ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদের নামে মামলা হবে কিনা জাতি জানতে চায়।