নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে নেমেছে জেলার একটি প্রভাবশালী পরিবার। নরসিংদী সদর পৌরসভার মেয়র ও তার ভাই জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তাদের অনুসারীরা এ অপপ্রচারের মাধ্যম হিসাবে কয়েকটি ভুইফোঁর অনলাইন পত্রিকাকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।


শনিবার নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমনের বিরুদ্ধে সীসা ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে একটি বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত খবর প্রকাশ করে ভুঁইফোর একটি অনলাইন। সেখানে একটি সিসিটিভির ফুটেজের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আদতে ছিনতাইকালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিমন তার নিজ বাসায় ছিলেন। ভিডিও এডিট করার মাধ্যমে যেই ভিডিওটি ভাইরাল করা হচ্ছে সেখানেও রিমনের কোনো উপস্থিতি নেই।


তবে ঘটনাস্থল দিয়ে নিজের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আলম একমির ছবি পাওয়া গেছে। তবে তিনি ঘটনাস্থলে থামেননি। সরাসরি মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে চলে যান।


এমনকি যে গাড়িতে ছিনতাই হয়েছে, সেই গাড়ির চালক রোমান মিয়া ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে ছিনতাইকালে কারা উপস্থিত ছিল তা উল্লেখ করেছেন। গাড়িচালকের জবানবন্দিতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি একমি’র কোনো নাম নেই। এ থেকে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে, সীসা ছিনতাইয়ের সাথে রিমনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এছাড়া সীসা কোম্পানির মালিক এবং এই মামলার বাদী মামুন সরকার ইতিমধ্যেই একটি ভিডিওবার্তায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আলম একমিকে সাথে নিয়ে বলেছেন, এ ঘটনায় তারা দুজন কোনোভাবেই জড়িত নন। যেখানে মামলার বাদীই বলছেন, রিমন এবং একমি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। তাই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে অপপ্রচারকারীরা।

এছাড়া, মামলার নথিতেও নেই রিমন ও একমির নাম। এমনকি পুলিশের তদন্তেও তাদের নাম আসেনি। এ অবস্থায় রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নরসিংদীর রাজনীতিতে একটি পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এমন নোংরা প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছিনতাইকালে যে গাড়ি এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর মালিক নাকি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিমন। প্রকৃত সত্য হচ্ছে আহসানুল ইসলাম রিমনের কোনো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়িই নেই। ঢাকায় আসা যাওয়ার জন্য তিনি ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করেন বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন বলেন, আমার বিরুদ্ধে নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুল সমর্থকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন নোংরা, মিথ্যা, বানোয়াট প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি আমার পরিবারের সুনামও তারা নষ্ট করছে। আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে বলে যে মিথ্যা প্রচার তারা চালাচ্ছে, আমি তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করবো।


মূলত, ছাত্রদলের এক চিহ্নিত ক্যাডার এবং মেয়রের বাসার কাজের ছেলেকে নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে না বসানোর পর থেকেই এই চক্রটি আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমি ইতিমধ্যেই বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি। আমি সততার সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসাবে রাজনীতি করি। এই করোনা সংকটের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছি, এ অবস্থায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া ভুইঁফোর অনলাইনের নিউজের বিরুদ্ধেও আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।