গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এই সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিলে ছাত্রলীগকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রাজনীতিতে মেধাবীদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা মেধাবীদের রাজনীতিতে আসতে সুযোগ করে দিতে চাই। মেধাবীরা জেগে উঠেছে, এই দেশ মেধাবীদের হবে।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কালো আইন বাতিল ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ইসিতে আবেদনকারী দলগুলোকে নিবন্ধন দিতে হবে। তা না হলে দলগুলোকে নিয়ে ইসির কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। আমরা ইসির শর্ত মেনে আবেদন করেছি। আমরা অবশ্যই নিবন্ধন পাব। কারণ তাদের শর্তের চেয়ে বেশি কাগজপত্র জমা দিয়েছি।

তিনি বলেন, ১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিতে হবে এই সরকারের কাছ থেকে। এই সরকার বিরোধীদের ভয় দেখাচ্ছে, তাদেরও ৫ মে এর মতো অবস্থা করা হবে। আমরা বলব সেই সুযোগ সরকারকে দেওয়া হবে না। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের জন্য এই সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে যে কারও সঙ্গে আন্দোলন করতে আমরা প্রস্তুত। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না, তা ১৮ সালে প্রমাণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই ১৮ সালে দেওয়া কথা রাখেননি। তাই তাকে আর বিশ্বাস করা যাবে না। আমরা এই সরকারের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেব। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ থাকতে পারবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ আগামী দুই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ, মানুষ খাবার কিনতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছে না। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সামনে এই অবস্থা আরও খারাপ হবে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে, অনেকেই চাকরি হারাবে বলে উল্লেখ করেন নুর।

গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, এবি পার্টির সদস্যসচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান আবু তাহের, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, হাসান আল মামুন প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, আবু হানিফ, মেজর মশিউজ্জামান, ড. মালেক ফরাজী, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, শাকিলউজ্জামান, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী আহ্বায়ক খায়রুল কবীর, যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ, আব্দুজ জাহের, তারেক রহমান, মাহবুব জনি প্রমুখ।