টানটান উত্তেজনা। টেস্ট ম্যাচে এমন রোমাঞ্চের দেখা মেলে কালেভদ্রে। শুভসূচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যাররা। শেষদিকে মিরাজের ব্যাটে আবারো জয়ের আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৩১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২১৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ। এর ফলে মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট মাত্র ১৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো মুমিনুল হকের দল। ঘরের মাঠে প্রায় ৯ বছর পর হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা। সবশেষ ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এমন লজ্জায় পড়েছিল তারা।

চট্টগ্রাম টেস্টে হারের পর আজ হেরে ধোলাইয়ের লজ্জা এড়াতে পারলো না মুমিনুল বাহিনী।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে আজ ঢাকা টেস্ট জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল একটু মনযোগ, ধৈর্য্য আর টেস্ট মানসিকতার। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা এসবের ধার ধারেন না। নিয়মিত বিরতিতে পড়তে থাকে উইকেট। এর আগে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১৭ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে তারা প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান করার সুবাদে এসেছিল ১১৩ রানের লিড।

গত বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচ এটা।

প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নামে ক্যারিবীয়রা। প্রথম ইনিংসে তারা ৪০৯ রান করে অলআউট হয়। পরে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৯৬ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৪০৯ (১৪২.২ ওভার)

(ক্রেইগ ৪৭, ক্যাম্পবেল ৩৬, মোসেলে ৭, বোনার ৯০, মায়ার্স ৫, ব্লাকউড ২৮, জশুয়া ৯২, আলজারি ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিকান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ৪/৯৮, মিরাজ ১/৭৫, নাঈম ০/৭৪, তাইজুল ৪/১০৮, সৌম্য ১/৪৮)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৯৬ (৯৬.৫ ওভার)

(তামিম ৪৪, সৌম্য ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ২১, মুশফিক ৫৪, মিথুন ১৫, লিটন ৭১, মিরাজ ৫৭, নাঈম ০, তাইজুল ১৩*, রাহি ১; গ্যাব্রিয়েল ৩/৭০, কর্নওয়াল ৫/৭৪, আলজারি ২/৬০, মায়ার্স ০/১৫, ওয়ারিকান ০/৪৮, বোনার ০/১৭, ক্রইগ ০/৭)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস: ১১৭ (৫২.৫ ওভার)

(ক্রেইগ ৬, ক্যাম্পবেল ১৮, মোসেলে ৭, বোনার ৩৮, ওয়ারিকান ২, মায়ার্স ৬, ব্লাকউড ৯, জশুয়া ২০, আলজারি ৯, রাখিম ১, গ্যাব্রিয়েল ১*; তাইজুল ৪/৩৬, নাঈম ৩/৩৪, মিরাজ ১/১৫, রাহি ২/৩২