মীর তোফাজ্জল হোসেন: আগামী ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন যুবলীগের কংগ্রেস আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের পর হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ কংগ্রেসে আহ্বায়ক করা হয়েছে বর্তমান কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদকে। কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে যুবলীগ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী সব নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরইমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এসব সংগঠনের শীর্ষ দুটি পদের প্রত্যাশীরা। ক্যাসিনো, মাদক ও টেন্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় কারনে চিন্তিও রয়েছেন অনেকেই। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু অভিনিউ ও ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া-আসা করছেন। যোগাযোগ বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে।

এর আগে চাদবাজি,টেন্ডার বাজিসহ কাসিনো বাণিজ্যে যাদের নাম অভিযোগে রয়েছে তাদের নাম এবার বাদ পরবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তবে এবার দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে বলে জানিয়েছেন অনেক সিনিয়র নেতারাই। তারা বলছেন, এবার সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেই বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এবার সংগঠনে স্থান পাবেন পরিচ্ছন্ন ইমেজ, দক্ষ সংগঠক, ত্যাগী নেতারা।

এবারের সপ্তম কংগ্রেসের ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সর্বশেষ আলোচনায় আছেন মাইনুদ্দিন রানা,ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ, রেজাউল করিম রেজা,সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ,আজিজুল হক শামিম,সাবেক সভাপতি,সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,

এস এম সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, গাজী সরওয়ার হোসেন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ, মাকসুদুর রহমান মাকসুদ,সাংগঠনিক সম্পাদক,ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ,

খন্দকার আরিফুজ্জামান আরিফ,উপ-দপ্তর সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ, তৌফিদুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক ছাত্র নেতা,এমদাদ হোসেন দপ্তর সম্পাদক,ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ, আহমদ উল্লাহ মধু,সহ-সভাপতি,ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ, সোহেল শাহরিয়ার,সাবেক সাধারণ সম্পাদক,মতিঝিল থানা ছাত্রলীগ সহ আরও অনেকে।  

জানতে চাইলে রেজাউল করিম রেজা বিডিপলিটিকাকে বলেন, যুবলীগ আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। দীর্ঘদিন সংগঠনটি জনসেবায় কাজ করে আসছে।আমিও নেতৃত্ব পেলে চেষ্টা করবো পূর্বের সুনাম বজায় রেখে কাজ করার।

আজিজুল হক শামিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দলের জন্য শ্রম দিচ্ছেন যারা তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত হলে সংগঠন শক্তিশালী হবে। নেত্রী যেটা ভালো মনে করবেন তিনি যাকে দায়িত্ব দিবেন আমি তাতেই খুশি।

এস এম সিরাজুল ইসলাম, দীর্ঘদিন যুবলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছি।যুবলীগ বাংলাদেশের একটি অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন। রীতিমত সুনাম নিয়ে জনগনের জন্য কাজ করে আসছে। নেত্রি যাকে দায়িত্ব দেবে তার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবো। 

উল্লেখ্য, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি ৩২ বছর বয়সে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন প্রতিষ্ঠাকালীন যুবলীগের। সময়ের পরিক্রমায় যুব সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহন করতে হয়েছে আরও অনেককেই।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে দল থেকে বিভিন্ন অভিযোগের দায়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ক্যাসিনো সহ বিভিন্ন চাঁদাবাজির অভিযোগের কারনে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।