ঢাবি প্রতিনিধি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষার্থীকে মারধর ও তাঁদের কাছে থাকা টাকা রেখে হল থেকে বের করে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের অভিযোগ ওই দুই জন শিক্ষার্থী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। 

রোববার  (৮ ডিসেম্বর) ভোররাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। ওই হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা আফসার হাসান রানার  নেতৃত্বে দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে মারধর ও পরে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। আফসার এফ আর হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।  

ছাত্রলীগের মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম রাকিবুল হাসান ও সুমন। রাকিব ২য় বর্ষে ও সুমন প্রথম বর্ষে পড়েন। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা এখন হলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সত্রে জানা যায়, সুমন ১১১ নম্বর ও রাকিব ১১৩ নম্বর কক্ষে থাকেন। সুমন তাঁর কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। তখন ছাত্রলীগ নেতা জিসান তাকে ঘুম থেকে তুলে হলের তিন তলায় নিয়ে যান। সেখানে আফসারের নেতৃত্বে তাকে একদফা মারধর করা হয়। তারপর গেস্টরুম ও হল ছাত্র সংসদের কক্ষে নিয়ে আরেক দফা মারধর করেন।

একই ভাবে রাকিবকেও ডেকে নেওয়া হয়। হল শাখা ছাত্রলীগের আফসার হাসান রানার নেতৃত্বে জহির, জুয়েল, লাভলু তাকে প্রথমে মারধর তারপর রড স্ট্যাম দিয়ে ভয় ভীতি দেখেন। 

মারধরের শিকার রাকিবুল হাসান বলেন, আমকে ঘুম থেকে তুলে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমি ফেসবুকে বিভিন্ন সময় লেখালেখি করি। নিরপেক্ষ থেকে লেখার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে তা সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে চলে যায়। 

মারধরের শিকার আরেক শিক্ষার্থী সুমন বলেন, আমার মানিব্যাগে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। আফসার ভাই, আমার মানিব্যাগ সার্চ করার নামে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেন। 

রাকিব আরও বলেন, আমি স্যার এ এফ আর হলের বৈধ শিক্ষার্থী। আমি বৈধ ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আমাকে এফ আর হলে সিট দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি কেন হলে থাকতে পারবো না? হল কী কোনো ছাত্র সংগঠনের?   

ছাত্রলীগ নেতা আফসার হোসেন রানা মারধর করা হয়নি বলে জানান। তিনি বলেন, তারা (রাকিব ও সুমন) দুই জনে একটা মিটিং করতেছিল। আমরা গিয়ে খোঁজ নেয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারধরের শিকার দুই জন শিক্ষার্থীকে আলাদা আলাদা ভাবে ডেকে আনা হয়। 

টাকা রেখে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কেন ওদের মানিব্যাগ খোঁজ করতে যাবো? আমরা কোনো টাকা নেয়নি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এটা হলের ভেতরের ঘটনা।হল প্রশাসন দেখবে। তারা যদি কোনো সাহায্য চায়, তাহলে আমরা করবো। 

এ বিষয়ে কথা বলতে স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষক আশিকুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি এ রকম কোনো অভিযোগ পায়নি। তিনি প্রাধ্যক্ষ বা অন্য কোনো আবাসিক শিক্ষকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। 


হলের প্রধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান ও  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।