আওয়ামী লীগ দেশকে নরক বানিয়েছে, যেভাবে চলছে কবরস্থান বানাবে। তাদের ক্ষমতার লোভ দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, ক্ষমতা মানে দেশকে লুণ্ঠনের সুযোগ মনে করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।

শনিবার (১২ মার্চ) মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা দক্ষিণ জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন,সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে অথনীতি ভেঙে পড়েছে, এটা শুধু এখন নয় ১৯৯১ সাল থেকে স্বৈরশাসন চলছে। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে পারি, দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দেবে না। আমাদেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হবে, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, আমরা কারও লেজুড়বৃত্তি করি না, যারা ব্যক্তি স্বার্থে কোন দলের লেজুড়বৃত্তি করেন তাদের দলে জায়গা হবে না। দেশ শাসন মানে নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন নয়। যারা অধিকার আদায়ে কাজ করবে, তাদের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্ব করবো, আমরা জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করব, সে মোতাবেক কর্মসূচি দেব, তার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভাল নেই, এটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু সরকার মনে করে আয় বেড়েছে তাই দ্রব্যমূল্য বাড়লে সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে জবাব দেন না। জিডিপির কি অবস্থা আমি জানি না, হয়তো ১০ লাখ লোকের এক টাকা করে আয় হয়েছে, তারা কিভাবে জীবনযাপন করবে।

টিসিবির লাইনে মধ্যবিত্তরাও যোগ দিচ্ছে। টিসিবি দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না, আপনারা রেশন দেন, না হলে, আমার পূর্বাভাস একটা দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যাবে, এখন দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে, কোথায় প্রতিকার পাবে তাদের জানা নেই, দেশের মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে গণতন্ত্রকে বিতাড়িত করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, যেখানেই যাই মানুষের একটাই কথা আপনারা রাস্তায় নামেন না কেনো, বর্তমান সরকারের যে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দুর্নীতি লুটপাট বেড়েছে এমনকি ঘুষের দরও বেড়েছে, সরকারের লোকজন যদি দুর্নীতি না করতো তাহলে ভর্তুকি দিতে পারতো, কিন্তু তাদের জনগণের প্রতি দরদ নেই।

বিএনপি চেষ্টা করছে আন্দোলন জমানোর জন্য, মানুষ জানে তারাও আওয়ামী লীগের মতোই, ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না সে কারণে সাড়া দিচ্ছে না। চেয়ারম্যান আপনি কর্মসূচি দেন মানুষের ঢল নামবে। কড়াইটা গরম হয়ে গেছে, রুটি দিলেই হয়ে যাবে। সেদিন আ.লীগের এক নেতা বললো ভাই আপনারা কি আমাদের ছেড়ে যাচ্ছেন, তাকে বললাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, উপনির্বাচন সব কেড়ে নিয়ে গেছেন, কাপড় খুলছেন, লেংটা করেছেন, আর কতো, দেখি জনগণ সম্মান দেয় কিনা।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত বাকস্বাধীনতা। কিন্তু এই দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। রাজনীতি হচ্ছে কৌশলের খেলা, আর কৌশলে জাপা প্রমাণ করেছে শ্রেষ্ঠ দল।

মহানগর দক্ষিণ জাপার সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদুর রহমান টেপা, ফয়সল চিশতী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আলমগীর শিকদার লোটন, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, জহিরুল ইসলাম জহির।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় মহানগরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে ঢাকা দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জিএম কাদের এমপি। বেলা সোয়া ১১টায় সম্মেলনস্থলে জিএম কাদের উপস্থিত হলে তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মহানগর নাট্যমঞ্চ ও আশপাশ এলাকা ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। ঢাকা মহানগরের ২৪ থানা নিয়ে গঠিত দক্ষিণ জাপার সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।