বিএনপির অবাধ মিথ্যাচার ফ্যাসিবাদী মানসিকতার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে তারাই ফ্যাসিবাদি চর্চা করেছিল।

ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন।

সরকারকে ফ্যাসিবাদী বলার আগে বিএনপিকে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাহলে দেখতে পাবেন নিজেরাই ফ্যাসিবাদের উত্তরাধিকার বহন করছে এবং তাদের মাঝে বিরাজ করছে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা।’

‘সরকার ব্যর্থতা আড়াল করতে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে’—বিএনপির নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার সবসময় স্বাগত জানায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল, যারা গত ১৩ বছরে সরকারের একটি সফলতাও দেখতে পায়নি, শুধু দেখেছে কথিত ব্যর্থতা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলি টানেল, বিআরটি, সারা দেশে ২২টি ফ্লাইওভার, ২০টির মতো আন্ডারপাসসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ তাদের চোখে পড়ে না।’

‘এসব উন্নয়ন দেখে আসলে বিএনপির গাত্রদাহ হয়’ বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

‘আজ শতভাগ বিদ্যুৎ সারা দেশে পৌঁছেছে, এটাও বিএনপির বিদ্বেষের কারণ’ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, দুই হাজার ২২৭ ডলার মাথাপিছু আয়। এই বিস্ময়কর অগ্রগতি  বিএনপির সহ্য হয় না।’

‘সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি ও স্বস্তি খোঁজেন’ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিন্তু তাঁরা নিজেদের ব্যর্থতা চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগ বা প্রয়াস চালান না।’

‘কর্মী-সমর্থকদের ধাঁধার মধ্যে রেখে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চায় বিএনপি। সার্বক্ষণিক সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে, অথচ তারা বলে তাদের কথা বলার সুযোগ নাকি কম’  উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন তাদের বক্তব্য পত্রিকায়, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আসছে। সংসদে আসন সংখ্যা অনুযায়ী প্রাপ্ত সময়ের বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে, তা-ও বলে কথা নাকি কম দেওয়া হচ্ছে!’

‘কথা বলার সুযোগ তো অবারিত ছিল। বিএনপির মহাসচিব বাইরে চিৎকার করারও প্রয়োজন ছিল না’ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব হিসেবে সংসদে গিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু নির্বাচিত হয়েও সংসদে না গিয়ে ফখরুল সাহেব দ্বিচারিতা করেছেন।’