বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে মধ্যরাতে ঢাকার আজিমপুরের বাসায় ফেরা এক সাংবাদিকের ভাইকে মারধর ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় পুলিশের একজন এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে লালবাগের উপ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক কাজী মোবারক হোসেন বলছেন, শনিবার রাত ১টার দিকে লালবাগ থানার এসআই কালামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ‘বিনা কারণে’ তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করেছেন। ‘ইয়াবা পাওয়ার’ কথা বলে তাকে থানায় ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লালবাগ থানার পরিদর্শক আসলাম বলেন, “পুলিশ রাতে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সেভাবেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এরা সেটাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে বলছে, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছে।”

এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তাদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ করেছেন মোবারক।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কনভেনশন হলে তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিতে দিতে মধ্যরাত হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে এসআই কালাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তার গাড়ির পাশে গিয়ে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরাএক পর্যায়ে এসআই কালাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তার গাড়ির পাশে গিয়ে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা ।বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে নরসিংদীর গ্রামের বাড়ি থেকে আসা তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও ভাতিজা রিয়াদ (২১) সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে রাত ১টার দিকে প্রথমে আজিমপুরের বটতলা এলাকায় বাসার সামনে এসে নামেন।

“তখন লালবাগ থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ এসে তাদের কাছে জানতে চায়, এত রাতে বাইরে কেন? তারা বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা জানালেও তাদের পুলিশের গাড়িতে উঠতে বলে। তারা বলে, তোদের কাছে ইয়াবা আছে। রাজি না হওয়ায় আমার ভাইকে মারধর শুরু করে। তখন আমাদের গাড়ি এসে পৌঁছালে আমি নেমে জানতে চাই, কেন মারা হচ্ছে?

“এর মধ্যে লালবাগ থানার পরিদর্শক আসলাম ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তিনি এসেই এনটিভি নিউজের সাংবাদিক ফখরুল শাহীনকে থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে আমার কলার ধরে টেনে গাড়িতে তুলতে যান। তখন আমার সঙ্গে থাকা বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি ১০-১২ জন সাংবাদিক আমাকে তার কাছ থেকে রক্ষা করে।”

এ খবর শুনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত আরও কয়েকজন সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তারা পরিদর্শক আসলামসহ ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্যকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন তারা। পরে ভোর রাত ৪টার পর মোবারক ও তার সঙ্গীরা ঘটনাস্থল ছাড়লে পুলিশ সদস্যরাও সেখান থেকে চলে যান।ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের উপ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশের এসআই কালামকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।