রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলার রায় আজ রোববার (১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ বিকেল ৩টার দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে, নিহত দিয়ার আত্মা শান্তি পাবে- এমন রায় চান তার বাবা। 

ইতোমধ্যে রায় শোনার জন্য কারাগারে থাকা চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতে উঠানো হবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, ‘রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাজীব-দিয়ার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও যুক্তি উপস্থাপনে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করছি।’

রায়ের প্রত্যাশা জানতে চাইলে মামলার বাদী নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। গাড়ি একটু স্লো করলে মেয়েকে হারাতে হতো না। তাকে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে-এমন রায় চাই। রায়ে যেন আমরাও শান্তি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা সড়ক দুর্ঘটনা নয়। অদক্ষ ড্রাইভার (চালক) আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী টি এম আসাদুল হক বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন আর সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছরের জেল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করছি, আসামিরা খালাস পাবেন।’ 

এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।