বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ‘উচ্চ পর্যায়ের’ সংলাপে বসেছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব।

বুধবার সকালে ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে শুরু হওয়া এই ‘রাজনৈতিক পরামর্শ সভায়’ সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের। যৌথ পরামর্শ সভায় বসার আগে সেখানেই একান্ত বৈঠক করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিনিয়োগসহ অবধারিতভাবে সৌদি আরবের শ্রম বাজার নিয়েও আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের শ্রম বাজারের ইস্যুটি থাকেই। তাছাড়া আমরা তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ চাই।

“এ সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং জনশক্তি রপ্তানিসহ নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হবে। এছাড়া একটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে আশা করছি।” এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা আসবে বলে কর্মকর্তারা জানান।

‘উচ্চ পর্যায়ের’ সংলাপে যোগ দিতে ঢাকায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশির দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য কয়েক বছর ধরে বলে আসছে সৌদি আরব। তাদের সংখ্যা বর্তমানে ৬৮ হাজার বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান। রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটিও রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে ঢাকাকে ‘হুমকি’ ও ‘চাপ’ দেওয়ার খবর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হলে, সেটি নাকচ করে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। তবে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে কেউ সৌদি আরব গিয়ে থাকলে তা নবায়নের সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ শেষে বুধবার দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান। এরপর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেরাণীগঞ্জে নির্মাণ হতে যাওয়া আরবি ভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। বুধবার বিকালেই সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন ফয়সাল বিন ফারহান।