আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকতে বিএনপির কৌশল দেখেই আওয়ামী লীগের জোটগত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “কৌশলগত টেকনিক্যাল এবং স্টেটেজিক্যাল কারণে আমরা আমাদের জোটগত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ আজকে করছি না। আমরা প্রার্থীতা স্কোটিনি শেষ হওয়ার পরে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায়এনে আমরা জোটের তালিকা প্রকাশ করবো। দলীয় ভাবে যে তালিকা করেছি এটা গণমাধ্যমের জন্য করিনি। আমরা তালিকা করেছি মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য।

আমাদের কিছু কৌশলগত বিবেচনার বিষয় আছে ও টেকটিক্যাল কিছু বিষয় আছে। সব বিবেচনা এবং যাচাই বাছাই আছে।

বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে এমনটি ভেবে মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “এমনটা আমরা ভাবছি না, প্রতি পক্ষের যে কৌশল  সেটা তো আমাকে দেখতে হবে। আমি কৌশলে মার খেতে চাই না। কৌশলেও আমাদের  এগিয়ে যেতে হবে। কৌশলে আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না। নির্বাচনী কৌশল এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে ভুল করলে চলবে না।

এছাড়া কিছু আসনে আমরা একাধিক প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছি, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর আমরা মাঠ পর্যায়ে আরেকটি জরিপ করবো। কে আসলে জনগনের কাছে বেশি জনপ্রিয় এটা আমরা বিবেচনায় নেব। আবার কোন কোন প্রার্থী ঋণ খেলাপির মধ্যেও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে আমরা বোঝাপড়ার মাধ্যমে মহাজোটের প্রার্থীতা ঘোষনা করবো।

শোনা কথা গণমাধ্যমে প্রচার না করার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা আমাদের তালিকা অফিশিয়ালি প্রকাশ করার আগে শুনা কথা এভাবে লিখলে প্রচার করলে বিব্রত হওয়ারই কথা। অনেক প্রার্থী মনোনয়ন পায় নি, তার পরেও বিভিন্ন টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে । এই ধরনের বিব্রত বোধ করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা করবো। জোটের অন্যান্য শরিকরাও একই ভাবে চিঠি দিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বিএনপি নির্বাচনে না আশার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমনটা আমরা আশঙ্কা করছি না, আমরা চাই প্রতিদন্দিতা পূর্ণ নির্বাচন হোক।

কক্সবাজারে আব্দুর রহমান বদির স্ত্রীকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমটি জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বদির বউয়ের অপরাধ কি? বদি অপরাধি হলে তার ভাগিদার কি তার স্ত্রী ? নো।

এমন কথার পর বদি অপরাধি কি না, আর কেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কাদের বলেন, “ বদিকে নিয়ে কন্টভার্সি আছে, সে জন্য করি নি। কন্টভার্সিকে আমরা এভয়েট করেছি। রানার বাবা, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। রানা জেলে, সে যে খুন করেছে এটা এখনও কোর্টে প্রমানিত হয় নি। এই অবস্থাও আমরা তাকে মনোনয়ন  দিতে পারতাম। কিন্তু কন্টভার্সি আছে তাই তাকে দেই নি।

রানা ও বদি এবারের জনমতের জরিপে শীর্ষে জানিয়ে কাদের বলেন, “এতসব বিতর্কের মধ্যেও সাতটি জনমতের জরিপে বদি এগিয়ে, এদিকে রানার সাতটি জনমত জরিপে এতসব বিতর্তেকর মধ্যে এগিয়ে। তার পরেও তাদের আমরা মনোনয়ন দেই নি

আমাদের তো নির্বাচনে জিততে হবে। এখন আমরা এমন দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছি যারা নিরপরাধ। পরিবারে নিরপরাধ লোক থাকলে তারা কি নির্বাচন করতে পারবে না? এটা কোন কথা।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী অধ্যাপক আবুসাইদ মনোনয়ন না পেয়ে গণফোরামে যোগ দেওয়াকে আওয়ামী লীগ কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে কাদের বলেন, “ড. কামাল হোসেনই যেখানে আওয়ামী লীগ থেকে চলে গেছেন, কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে নেই, সুলতান মনসুর নেই, সাংগঠনিক সম্পাদক মান্না নেই। তাদের তুলনায় এরা কি ইম্পর্টেন্ট লোক? এসব নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। এসব নিয়ে বাংলাদেশের জনগনের কাছে আমাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে  বই কমে নি। দিনে দিনে আমাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এটাই আমারে বড় এসেট।

বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে আবার দলে নেওয়া হবে কি ন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “বিদ্রোহ মানেই বহিস্কার। আজীবন বহিস্কার। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে আরও মর্ডান হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আকতার পপি।