দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বনে যাচ্ছেন খুলনা, বাগেরহাটর ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। বন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে তারা বনে প্রবেশ করছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মানেই বনে অবাধ বিচরণ ও ইচ্ছেমতো যেখানে-সেখানে মাছ ধরা যাবে—এমনটা ভাবলে হবে না। প্রত্যেক জেলেকেই এবারের শর্তগুলো পালন করতে হবে। বন সংশ্লিষ্টরা এবার অনুমতি পাওয়া প্রতিটি জেলে বহরের ওপর কঠোর নজরদারি করবে। তাই বনের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এক ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় ফাঁসের জাল নিতে হবে।

বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এবার মৎস্য আহরণে জেলেদের কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। জাল পাতার জন্য বাঁশ, কচা, রান্নার জ্বালানি কাঠ, নৌকার ছাউনি সবকিছুই নিয়ে যেতে হবে। ১৮টি অভয়ারণ্য এলাকা এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে কোনও জেলে বা মাছ ধরা নৌকা প্রবেশ করতে পারবে না। এক ইঞ্চির ছোট ফাঁসের কোনও জাল ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে জেলেরা চরপাটা জাল পেতে ও বরশি দিয়ে মাছ এবং চাই পেতে কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। কেউ বিষ দিয়ে মাছ শিকার বা বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিএলসি বাতিল, বন আইনে জেল-জরিমনা এবং স্থায়ীভাবে তাকে বনে প্রবেশে স্থায়ী নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণির প্রজননের জন্য গত ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করেছিল বন বিভাগ। দুই মাস নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় দরিদ্র জেলেদের চরম দুর্দিন গেছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীদেরও লোকসান গুণতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর সুদ ও ধার-দেনা করে নৌকা ও জেলেদের পেছনে নতুন করে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান জানান, কঠোর বিধিনিষেধ পালনের শর্তে এবার জেলেদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ১২ আগস্ট শরণখোলা স্টেশন অফিসে মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার ও জেলেদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা করা হয়েছে। ওই সভায় তাদেরকে সব নিয়ম সম্পর্কে ধারণ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।