দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবা‌দে ২৮ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস (৬টা-১২টা) হরতালের ডাক দি‌য়ে‌ছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

শুক্রবার (১১ মার্চ) পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এই কর্মসূচি ঘোষণা ক‌রেন।

তিনি বলেন, ‘‘নিত্য প্রয়োজনীয় অতি জরুরি খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের মানুষ আজ নাকাল। মানুষ চরম দুর্ভোগ আর কষ্টে দিন পার করছে। গরিব ও স্বল্প আয়ের কোটি কোটি মানুষের খাদ্যগ্রহণও কমে গেছে। ঘরে ঘরে হাহাকার দেখা দিয়েছে। জনগণের এক বড় অংশ দুই বেলাও ভালভাবে খেতে পারছে না। এই অবস্থা চলতে দিলে দেশে আবারও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।

‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আমরা ২৮ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস (৬টা-১২টা) হরতালের ডাক দি‌য়ে‌ছি। হরতাল সফল করতে সারাদেশে সভা, সমাবেশ, পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রচারপত্র বিলি করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে ব‌লেও জানান তি‌নি।”

দেশের জনগণকে নিজেদের বাঁচার প্রয়োজনে দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি সফল করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানি‌য়ে সাইফুল হক সকল বাম প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক দল, সংগঠন, শ্রেণিপেশার সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকেও স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একইদিন হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা, সমর্থন ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

সাইফুল হক বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকরি কোনো মনিটরিং ও ভূমিকা না থাকায় মুনাফাখোর অসৎ সিণ্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দেশের মানুষকে পুরোপুরি জিম্মি করে ফেলেছে। প্রতিদিন ভোক্তাদের পকেট থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নিচ্ছে। আমদানিকারক, মিলার, চাতালের মালিক, আড়তদার, মজুতদার, ফড়িয়া মধ্যস্বত্ত্বভোগী সিণ্ডিকেটসগুলোর সঙ্গে সরকারের অশুভ আতাতের কারণে প্রায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম আজ আকাশচুম্বি। মানুষের জীবন নিয়ে তারা এখন রীতিমত ছিনিমিনি খেলছে। বাস্তবে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদ-মার্কসবাদী এর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মানস নন্দি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের এড. মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল, ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদীর বিধান দাস। উপস্থিত ছিলেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ কাফি রতন, আকবর খান, জুলফিকার আলী, বাচ্চু ভূইয়া, অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন, লুনা নূর, মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ।