ইউসুফ দিপু- আজ ১ আগস্ট বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের  পহেলা সেপ্টেম্বর দলটি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। তার হাতে গড়া বিএনপি গত ৪১ বছরে বার বার সকলের অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যানে কাজ করে গেছে। ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলনেও রাজপথে আপোসহীন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে।

তবে বর্তমানে দলটি সংকটের মধ্যে রয়েছে সেটা জনগণের মধ্যে প্রকাশ্য রয়েছে। ১৯৭৮ সালে দলটির প্রতিষ্ঠার পর এই ধরনের সংকটে পরতে দেখা যায়নি বিএনপিকে। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দলের ৭ম কাউন্সিল, পুরনো ও নতুন জোটের রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাষ, দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব কাটিয়ে পুর্নগঠন, সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন দলটির সামনে। সবকিছু ছাপিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপায় বের করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে যারা বর্তমানে দল চালাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা, অনেকটা ভুল সিদ্ধান্তে এবং ভুল রাজনীতির কারণে জনপ্রিয়তা থাকার পরও এই সংকটের রয়েছে দলটি। বিএনপির ২০১৪ সালে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি ভালভাবে নেয়নি জনগণ। ওই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে যোগ্য নেতৃত্বও খুজে পায়নি দলটি।

দলটি পাঁচবার দেশ শাসনের সুযোগ পায়। বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়ে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় ভাঙনের মুখে পড়লে খালেদা জিয়া ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের শক্ত মনোবলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আশানুরুপ ফল না করতে পারা, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভরাডুবি পর এখন সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত দলটি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। চলতি বছরের অক্টোবর অথবা ডিসেম্বর ৭ম কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। তবে দুই নেতাকে বাইরে রেখে কাউন্সিল হবে কী-না তা নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

দলের প্রধান খালেদা জিয়া ৫৭১ দিন ধরে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী। ৭৪ ঊর্ধ্ব বয়োবৃদ্ধ খালেদা জিয়া এখন নানা রোগে আক্রান্ত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১১ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন আসামি তিনি। এছাড়া আরও দুই মামলায় তার ১০ ও ৭ বছরের সাজা হয়েছে। তারও দেশে ফেরা এখন অনিশ্চিত। ৮১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির অর্ধেকও পুনগর্ঠন করতে পারেননি দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

বিএনপির ঘনিষ্ঠজন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলেন, বিএনপিকে তার আগের অবস্থায় আসতে হলে দুই নেতার বাইরে কাউকে না কাউকে একক নেতৃত্ব দিতে হবে। তার নেতৃত্বেই খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং বিএনপি মানুষের দল হিসেবে আবার সামনে আসবে। তিনি আরো বলেন, ‘২০ দল থেকে জামায়াতকে বাদ দিয়ে অন্যান্য দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের কর্মসূচি এখনই দেওয়া উচিত। জামায়াতকে বাদ দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যে বার্তা যাবে তাতেই বিএনপি অনেকটা এগিয়ে থাকবে।

তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেন, ‘অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন বেশি শক্তিশালী। তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় স্থায়ী কমিটি সবাইকে নিয়ে দল পরিচালনা করছে। সামনে আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপির জন্মই হয়েছিল বাকশালের বিপরীতে দেশে গণতন্ত্র পুর্নপ্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। জিয়াউর রহমান সেটি করেছিলেন। পরে এরশাদ সেই পথ রোধ করেন, যা ৯ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আবারো প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান সরকার সেই একই কাজ করছে। নেত্রীকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র পুর্নপ্রতিষ্ঠাই বিএনপির নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশি বিদেশি একটি চক্র দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তারই অংশ হচ্ছে খালেদা জিয়া কারাগারে। জনগন চাইলে বিএনপি যেকোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ নিতে সব সময়ের মতোই প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।