পরিচালক তানিয়া নূর খুব শীঘ্রই চলচ্চিত্র প্রেমী দর্শকদের উপহার দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্ময়াবলী সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘বনবিবির পালা’ নামের একটি সিনেমা। ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শুরু করে তিনি ইতোমধ্যে সিনেমার প্রথম গানটি প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

কিন্তু সেখানেই বাধলও গণ্ডগোল। ‘বনবিবির পালা’ সিনেমার পরিচালক তানিয়া নূরের লেখা সিনেমার প্রথম গান ‘পাখি উড়ে,পাখি ঘুরে’। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী ও সুর করেছে নির্ঝর চৌধুরী।

তানিয়া নূর গানটি ইমন চক্রবর্তীর একক কণ্ঠে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করেন গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার। তার ঠিক ২ দিন পর ১১ নভেম্বর এই গানটি ইউটিউবে দ্বৈত কণ্ঠে,ভিন্ন চিত্রধারণ করে প্রকাশ করা হয় ‘পদ্মা পুরাণ’ চলচ্চিত্রের নামে। এরপর ‘বনবিবির পালা’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক তানিয়া নূর ‘পদ্মা পুরাণ’ চলচ্চিত্র পরিচালক ও সুরকার নির্ঝর চৌধুরীর নামে প্রতারনার অভিযোগ আনেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চলচ্চিত্র পরিচালক তানিয়া নূর বলেন,’ বনবিবির পালা ‘ নামের চলচ্চিত্রটি তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম বছর তিনেক আগে। সিনেমাটি প্রযোজনা করছি নিজের অর্থ দিয়ে।তাই নিজের পেশা ও পরিবার ঠিক রেখে কাজ করতে একটু সময় লাগছে। এর মাঝে সিনেমার একটি গান আমি নিজে লিখে তা কলকাতা থেকে রেকর্ড করিয়ে নিয়ে আসি ইমন চক্রবর্তীকে দিয়ে। গানটির সুর করে ছিল নির্ঝর চৌধুরী।সিনেমার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করে আমি চাচ্ছিলাম না আপাতত গানটি কোথাও প্রকাশ করতে।

কিছুদিন আগে আমি বুঝতে পারি আমার গানের সুরকার নির্ঝর চৌধুরী গানটি চুরি করে ইতোমধ্যে বিক্রি করে ফেলেন ‘পদ্মা পুরাণ’ সিনেমার ডিরেক্টর রাশিদ পলাশের কাছে। তখন আমি বাধ্য হয়ে গানটি গত ৮ নভেম্বর প্রকাশ করেছি।

কি ভাবে বুঝতে পারলেন আপনার গান চুরি হয়েছে জানতে চাইলে তানিয়া নূর বলেন, ‘পদ্মা পুরাণ’ সিনেমার ডিরেক্টর রাশিদ পলাশ’ নিজেই আমাকে ফোন করে বলেছে আপা আমি আপনার গানের শ্যূট করে ফেলেছি।তিনি আমার গান কোথায় পেল জানতে চাইলে রাশিদ পলাশ বলে নির্ঝর চৌধুরী গানটি দিয়েছে।

এরপর তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে আমার গান ‘পদ্মপুরাণ’ সিনেমায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা আমার গানটির মিউজিক ভিডিও করে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করেছে কোন চুক্তি বা অনুমতির তোয়াক্কা না করেই।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তানিয়া বলেন,যেহুতু তারা অপরাধ করেছে তাই আমি এখন আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি এবং এর সঠিক বিচার পাব বলে আশা করছি।

‘পদ্মা পুরাণ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক রশীদ পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পাখি উড়ে,পাখি ঘুরে’ গানটির বিষয়ে তানিয়াকে মূলত আমার কাছে নির্ঝর চৌধুরী নিয়ে আসেন।তানিয়া তার সিনেমায় ব্যবহার করবে না বলে তিনি আমাকে আমার সিনেমার পরিপ্রেক্ষিতে গানের কিছু কথা সংশোধন করে লিখে দেয় এবং পরে গানের অডিও ট্র্যাকটির মূল কপি আমাকে দিয়েছেন সে নিজেই।

রাশিদ পলাশ বলেন,এখানে তানিয়া নূরের সাথে আমি কোন লিখিত চুক্তি বা অনুমতিতে যাইনি। যেহুতু নির্ঝর চৌধুরীর মাধ্যমেই গানের সকল বিষয়ে আলোচনা হতো সেহুতু গানে শুটিং শুরু করার বিষয়ে আমি নিজে তানিয়া নূরকে অবগত করার প্রয়োজন মনে করিনি। তবে আমি ভেবেছি নির্ঝর তানিয়াকে শুটিং এর বিষয়ে সব জানিয়েছে। শুটিং শেষ করার পরে আমাকে তানিয়া নূর জানান তিনি আমাকে গানটি আমার সিনেমার জন্য দেবে না। পরবর্তীতে আমি যখন নির্ঝরকে আবার জিজ্ঞাসা করি তখন নির্ঝর বিষয়টি দেখবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করে। আর এমনিতে আমি আগেই সকলকে দিয়েছিলাম ১১ নভেম্বর আমার গানটি আমার ‘পদ্মা পুরাণ’ চলচ্চিত্রের নামে রিলিজ দেব সেই জন্য আমি যথাসময় গানটি রিলিজ দিয়েছি।

এ দিকে পরিচালক রাশিদ পলাশ গানটি তানিয়া নূরের কাছে থেকে নিয়েছে দাবি করলেও সুরকার নির্ঝর চৌধুরী বলছে গানের মূল কপিটি রাশিদ পলাশকে সে নিজেই দিয়েছে।

সুরকার নির্ঝর চৌধুরী বলেন, আমি যখন তানিয়াকে নিয়ে রাশিদ পলাশের কাছে যাই। তখন তাদের নিজেদের মধ্যেই একটি মৌখিক চুক্তি হয় গানটি ‘পদ্মা পুরাণ’ সিনেমায় ব্যবহার হবে। তখন আমি তানিয়ার অনুমতি নিয়ে গানের মূল কপিটি ‘পদ্মা পুরাণ’ সিনেমার পরিচালক রাশিদ পলাশের কাছে হস্তান্তর করি। যেহুতু আমি গানের সুরকার ও গানটির পরিচালক সেহুতু গানটি আমার কাছে থাকাই স্বাভাবিক। আমি তখন কিছু অংশ পরিবর্তন করে পরিচালক রাশিদ পলাশকে দেই।

বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার জানান, একটি সিনেমার গান কেউ চুরি করে ব্যবহার করবে সেটা অন্যায়।গানটির মালিক আমাদের পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতিতে অভিযোগ করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তখন আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। একজনে মালিকানার গান চুরি করে থাকলে অবশ্যই কঠোর শাস্তি হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কপিরাইট আইন হয়েছে ২০০০ সালে যা পরে ২০০৫ সালে সংশোধন হয়। কপিরাইট আইন লঙ্ঘনে শাস্তি “চলচ্চিত্র বাদে চারটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছরের জেল ও দু লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ পাঁচ বছরের জেল”।